বাঙালি রান্নাঘরে খুঁজলে পাওয়া যায় তিল । তিলের নাড়ু কম বেশি সকলেই পছন্দ করে । আমাদের দেশে সাদা তিলের ব্যবহার বেশি করা হয় । তিল দেখতে ছোট এবং এটি গুনে ভরপুর । তিলের বীজ হল ক্ষুদ্র যা দক্ষিণ আমেরিকা , আফ্রিকা , এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া সেসমাম ইণ্ডিকাম উদ্ভিদের শুঁটিগুলিতে জন্মায় । বহু প্রাচীন কাল থেকেই এদেশে তিল থেকে নিঃসৃত তেলের ব্যবহার প্রচলিত । সাধারণত তিল দুই প্রকার । যেমন – ১। সাদা তিল , ২। কালো তিল । নাড়ু থেকে শুরু করে পিঠে বিভিন্ন রান্নায় তিল ব্যবহার করা হয় । মধ্য প্রাচ্য থেকে দক্ষিণ আমেরিকা , উওর আমেরিকা , এবং এশিয়া – তারা বেশ কয়েকটি প্রাধান এবং পাশের খাবারে উপস্থিত করে এই তিল দিয়ে । এই বীজগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা , উচ্চ রক্তচাপ এবং বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করে । এছাড়া ত্বক , চুল এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে ।

কালো তিলের পাশাপাশি সাদা তিলেরও রয়েছে অজস্র উপকারিতা যা অনেকেরই কাছে অজানা । খাদ্য হিসেবে খুবই জনপ্রিয় তিল । মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় , যেমন – নাড়ু , মোয়া ইত্যাদি । তিল বীজ পুষ্টির একটি পাওয়ার হাউস । সাদা তিলে রয়েছে একাধিক ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য অতন্ত উপকারী । এছাড়া তিলের তেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী । সাদা তিলে রয়েছে ফাইবার , প্রোটিন , ফসফরাস , ম্যাঙ্গানিজ , ম্যাগনেসিয়াম , ক্যালসিয়াম , আয়রন , কপার , ভিটামিন বি৬ ইত্যাদি । এছাড়া এই বীজে অ্যান্টি – ইনফ্ল্যামেটারি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট থাকে । সাদা তিলে এমন সব উপাদান রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে ।

তিল শরীরের উষ্ণতা বাড়ায় । এটি ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে । এই তিল হজমে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । এই বীজ থাইরয়েডের কার্যকারিতা বাড়াতে ভুমিকা পালন করে । তাই নিয়মিত খদ্যতালিকায় এই বীজের দানা রাখলে উপকার পাবেন হাতেনাতে । তিলের বীজ একটি পুষ্টিকর খাদ্য যা স্বাস্থ্য – সুবিধার একটি পরিসীমা প্রদান করতে পারে । তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এর গুনাগুন সম্পর্কে ——
হাড় মজবুত করে ঃ সাদা তিলে রয়েছে ক্যালসিয়াম , জিঙ্ক ও ফসফরাস । যা হাড় মজবুত করে এবং অষ্টিওপোরোসিসের সমস্যা কমায় ।

ক্ষত নিরাময় করে ঃ যে কোনো ধরনের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে । যদি শরীরের কোনো অংশ জ্বালা করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষতস্থানে তিল এবং দুধ দিয়ে প্রলেপ লাগালে জ্বালা দূর হয় । যদি টাটকা ক্ষত বা ঘা না সারলে সাদা তিল পিষে নিতে পরিমাণ মতো ঘি এবং মধু মিশিয়ে লাগালে অনেক ওষুধ বা মলমের চেয়ে বেশি কাজে দেয় ।
বাতের ব্যথা দূর করে ঃ বাতের ব্যথা দূর করতে সাদা তিল খুব কার্যকরী । এতে উপস্থিত রয়েছে কপার বা তামা । যা গাটের ব্যথা , মাসল পেইন , ফুলে যাওয়া বা বাতের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে ঃ সাদা তিল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সাহায্য করে । এতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে জিঙ্ক , ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস , যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । উচ্চ ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট সামগ্রীর কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তিলের বীজ উপকারী । তিলের বীজে পাওয়া দ্রবণীয় ফাইবার রক্ত প্রবাহে চিনির শোষণকে ধীর করতে সাহায্য করতে পারে । যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে । এছাড়া , এই বিজে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা একটি খনিজ । যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে । গবেষণা করে দেখা যে যাদের খাবারে ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে । ডায়াবেটিস রোগীরা এটি নিশ্চিত ভাবে খেতে পারেন ।

পেট বা দাঁতে ব্যথা দূর করে ঃ সাদা তিল পেটের ব্যথা দূর করে । তার জন্য এক চিমটে হিং , কালো লবণ মিশিয়ে তিলের তেলে হালকা গরম করে মালিশ করলে বা সেঁকে নিন । দেখবেন পেটের ব্যথা দূর হয় এবং গ্যাস কমে যায় । এছাড়া দাঁত ব্যথা করলে কালোজিরে বা হিং পিষে নিয়ে তিলের তেল মিশিয়ে গরম করে কুলকুচো করলে বেশ আরাম পাওয়া যায় । ওরাল হেলথের জন্য তিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য সাদা তিলের তেল মুখের ভিতিরে স্প্রে করা হয় । আর এই পদ্ধতিকে বলা হয় অয়েল পুডিং ।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ঃ কোষ্ঠকাঠিন্য পরিচালনা করতে সাদা তিলের বীজ উপকারী । এতে রয়েছে ফাইবার । ফাইবারের জল ধারণ ক্ষমতা রয়েছে যা মলের সাথে বাল্ব যোগ করে এবং সহজে বহিস্কারে সাহায্য করে । তিলের বীজ কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কারণ , এর রেচনা ( হালকা রেচনা ) এবং ভাত ভারসাম্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে ।