বাঙালি বাড়িতে রোজই ভাত রান্না হয় । এটি তৈরি করাও খুব সহজ । কেউ সারাদিনে একবার ভাত খায় । আবার কেউও কেউও তিনবেলাই ভাত খেয়ে থাকে । তবে সাধারণত আমরা ভাত রান্না করে তার মাড় বা ফ্যান ফেলে দিই । কিন্তু অনেকেই জানে না ভাতের মাড় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী । এই ফ্যানেই রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ । এখন বাঙালি ডায়েটের চাপে ভুলতে বসেছে ফ্যানা ভাতের স্বাদ । আর এই ফ্যানা ভাতে রয়েছে হাজারও উপকারিতা । শরীর এবং ত্বকে চাঙ্গা রাখতে ভাতের মাড়ের কোনো বিকল্প হয় না । ভাতের ফ্যান যেমন শরীর-সবাস্থ্য ভাল রাখতে কার্যকারী , তেমনই রূপচর্চাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে । ভাতের মাড় খেলে পুষ্টির ঘাটতি হবে না শরীরে ।

প্রাচীনকাল থেকে শরীরের নানা সমস্যার ঘরোয়া টোটকা হিসেবে চাল ভেজানো জল , ফ্যানের ব্যবহার হয়ে আসছে । ভাতের মাড় নিয়মিত খেলে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং এটি আমাদের স্বাস্থ্যের আরও অনেক উপকার করে । ভাতে যে পুষ্টিগুন রয়েছে তার সব উপাদানই রয়েছে ভাতের মাড়ের মধ্যে । ভাতের মাড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ । ভাতের মাড়ের উপস্থিত রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , খনিজ -সহ আরও বেশ কিছু কার্যকারী উপাদান , যেমন – কার্বোহাইড্রেট , পটাশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , ফাইবার । তাছাড়া এই পানীয়তে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম । যা ওজন কমাতে খুব কার্যকারী । এছাড়া ভাতের মাড়ের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান । যা আমাদের সবাইকে বিভিন্ন রকম রোগের বিরোধে লড়তে সাহায্য করে ।
ভাতের মাড় বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাদ্য । বর্তমানে অনেকে অপুষ্টিতে ভোগেন তাদের জন্য নুন দিয়ে ফ্যানা ভাত খাওয়া ভীষণ উপকার । এই ফ্যানা ভাত শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি শরীর সতেজ রাখে । ভাতের মাড় শরীরে ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । ভাতের মাড় ত্বক থেকে চুলের যত্ন বা বাগানে গাছের দেখভাল , নানা কাজে আসে । ভাতের মাড় গ্যাস অম্বল এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে । এটি খেলে শরীরের জলের ঘাটতি দূর হয় । তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক ভাতের ফ্যান খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে —————————————————

১। ভাতের মারের মূল উপাদান হল স্টার্চ । যা হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । ভাতের ফ্যান খকেলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে এবং হজমজনিত সমস্যা দূর হয় । এছাড়া ভাতের মাড়ে রয়েছে ফাইবার । যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে । পেটের রোগ হলে বা হজমে সমস্যা হলে এটি খেলে শরীর ভাল থাকে । এটি মেটাবলিজাম হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর ।
২। ভাতের ফ্যানে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন , যেমন — ভিটামিন বি১ , বি২ , বি৬ । যা বিপাকহার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । স্বাস্থ্য ভাল রাখার কাজে ভাতের মাড় বিশেষ ভাবে কার্যকর । কারণ , এতে রয়েছে পটাশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম ।
৩। ভাতের ফ্যান শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে । অতিরিক্ত গরমে ব্যায়াম করার পর শরীর ডিহাইড্রেটড হয়ে যেতে পারে । ফলে ঘামের মধ্যে দিয়ে যে পরিমাণ খনিজ শরীর থেকে বাইরে বেরিয়ে যায় । এই খনিজ সেই ঘাটতি পূরণ করে দিতে পারে । এছাড়া ভাতের ফ্যানে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । কারণ , ভাতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকে ।

৪। ভাতের মাড় ত্বকের নানা রকম সমস্যা দূর করে । এটিকে প্রাকৃতিক টোনারও বলা হয় । ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভাতের মাড় ব্যবহার করা যেতে পারে । ভাতের মাড় একটি বাটিতে নিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন । এরপর পরিমাণ মতো কিছুটা তুলো নিয়ে সেটিকে ফ্যানের মধ্যে ভিজিয়ে মুখে লাগালে উজ্জ্বল ত্বক পাবেন । ব্রনের সমস্যা দূর করতেএবং ত্বকের কালচে ভাব দূর করতেও ভাতের ফ্যান ব্যবহার করা হয় । ত্বকে ফুসকুড়ি , র্যাশ এবং চুলকানির সমস্যা দেখা দিলে স্নানের জলের সাথে ভাতের মাড় মিশিয়ে নিয়ে স্নান করুন । ফল পাবেন হাতেনাতে ।
৫। ভাতের মাড় পেট খারাপ বা ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে খুব কার্যকরী । এই সমস্যা সমাধান পেতে হলে এক গ্লাস ভাতের মাড়ের সঙ্গে এক চিমটে নুন মিশিয়ে খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায় । এছাড়া ভাতের মাড় শরীরে এনার্জির ঘাটতি দূর করে ।

৬। ঋতুস্রাব চলাকালীন পেটে অসহ্য ব্যথা , যন্ত্রণার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে ভাতের মাড় । এতে থাকা প্রয়জনীয় উপাদানগুলি ঋতুস্রাব চলাকালীন জরায়ুর পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে । ভাতের মারে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম । ফলে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে ।