health benefits of onion : পেঁয়াজের উপকারিতা ।

সারা বিশ্বের খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল পেঁয়াজ । পেঁয়াজ একটি সর্বজন পরিচিত কন্দমূল । পেঁয়াজ প্রাকৃতিকভাবে ভেষজগুনের আধার । সূর্যের কিরণ বিশেষভাবে গ্রহণ করতে পারে বলেই এর পাতা গাঢ় সবুজ । পেঁয়াজের সবুজ পাতা ও কলি আমরা রান্না করে খেয়ে থাকি । পেঁয়াজ আমাদের রান্নাঘরে সবসময় মজুত থাকে । পেঁয়াজ খেলে বহু অসুখ থেকে দূরে থাকা যায় । শুধু কাঁচা পেঁয়াজ নয় , বরং রান্নায় পেঁয়াজ দিলেও সমান উপকার পাবেন । পেঁয়াজ রান্নার ক্ষেত্রে একটু সচেতন থাকতে হবে , যে তেল – মশলা কম দিয়ে রান্না করতে হবে । তবেই পেঁয়াজে উপস্থিত নানা উপকারী উপাদানের সুফল মিলবে ।

তরকারি রান্না পেঁয়াজ ছাড়া চিন্তাই করা যায় না । মসলা হিসেবে খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজে রয়েছে অসংখ্য উপকারিতাও । পেঁয়াজ ভিটামিন , মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট – সহ পুষ্টিগুনে ভরপুর । এছাড়া পেঁয়াজে রয়েছে ভিটামিন যেমন – ভিটামিন বি১ , বি২ , বি৩ , বি৫ , বি৬ , বি৯ ও ভিটামিন সি , ফাইবার , সোডিয়াম , পটাশিয়াম । পেঁয়াজ শরীরে শক্তি জোগায় এবং বিভিন্ন ভিটামিনের গুন দিয়ে দেহকে সাবলীন রাখতে কাজ করে । হার্টের কার্যক্ষমতা ও কার্ডিভাসকুলার ফাংশন ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে পেঁয়াজ । নানা রোগের প্রতিকার হিসেবে পেঁয়াজ ব্যবহার হয়ে থাকে । চলুন জেনে নেওয়া যাক পেঁয়াজের প্রতিকার ।

হার্টের সমস্যা দূর করে — পেঁয়াজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । যা ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ আনতে পারে । ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই । যাঁদের কার্ডিভাসকুলার ফাংশনে সমস্যা আছে , তারা প্রতিদিন দুই – চা চামচ পেঁয়াজের রস খেলে সমসা সমাধান হতে পারে ।

জ্বর – সর্দি কমে — নাক বন্ধ , শরীর গরম , কপাল ভার , মনে হয় জ্বর আসছে । সেক্ষেত্রে পেঁয়াজের রস নাকে একটু আনলে সর্দি বেরিয়ে যাবে এবং জ্বর ভাবও চলে যাবে ।

প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে — পেঁয়াজে ফাইবার উৎস । যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে । এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন সি , যা একটি ভাল এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে

হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারে — পেঁয়াজে রয়েছে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম । যা শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে । কাঁচা পেঁয়াজ গরম থেকে আরাম দেয় । পেঁয়াজের মধ্যে পাকৃতিকভাবে শরীরকে শীতল করার গুন রয়েছে । কাঁচা পেয়াজে লেবুর রস , পুদিনা পাতা , নুন এবং কালো মরিচ যোগ করে নিন । দই দিয়ে তৈরি পেঁয়াজ রাইতা ও হাইড্রেটিং । এটি শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে ।

চোখের জন্য ভাল — পেঁয়াজে রয়েছে সেলেনিয়াম , যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন ই-তে রূপান্তরিত হয় । এই ভিটামিন চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ উপকারী । যাঁদের দৃষ্টির সমস্যা আছে , তারা নিয়মিত পেঁয়াজের রস খেলে দৃষ্টির সমস্যা সেরে যাবে ।

অ্যাজমার সমস্যা থেকে মুক্তি —- যাঁদের অ্যাজমার সমস্যা আছে , তাঁরা নিয়মিত দুবেলা এক চা – চামচ করে পেঁয়াজের রস খেলে অ্যাজমার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন । বিশেষ করে রাতে শোবার আগে এক কাপ গরম জলে এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ হলুদের গুঁড়ো , এক চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমাজনিত সমস্যার উপকার পাবেন ।

হজমে সাহায্য করে — পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে , যা মসৃণ মলত্যাগ নিশ্চিত করে । পেঁয়াজে স্যাপোনিনও থাকে যা পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে । এক চামচ পেঁয়াজের রস , একইসাথে সমপরিমাণ গরম জল মিশিয়ে খেলে তা পেট পরিস্কার করতে সাহায্য করে । এটা দুপুরের খাবারের পরে খেলে উপকার পাওয়া যায় ।

প্রস্রাব ধারণক্ষমতা বাড়াতে — পেঁয়াজ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় । প্রস্রাবের বেগ হলে আর দাঁড়ানো যায় না , একটু দেরি হলে বেসামাল হয়ে কয়েক ফোঁটা বেরিয়ে যায় । এক্ষেত্রে রাতে শোবার আগে এক চামচ পেঁয়াজের রস আধ কাপ জলে মিশিয়ে খেতে হবে । ৪ সপ্তাহ খেলে প্রস্রাবের ধারণক্ষমতা বাড়বে ।

অর্শ বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে — দুপুরে সবজি , স্যালাডে পেঁয়াজসহ খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে । এছাড়া অর্শের কারণে রক্ত পড়তে থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে যায় । এক্ষেত্রে এক চমচ পেঁয়াজের রস সমপরিমাণ জলে মিশিয়ে খেলে তা ধীরে ধিরে বন্ধ হয়ে যাবে ।

মাথাধরা কমে এবং বমি হলে — সর্দি – জ্বরে মাথাব্যথা হলে ২-৩ ফোঁটা পেঁয়াজের রস নাক দিয়ে তানলে তৎক্ষণাৎ মাথাধরা এবং ব্যথা কমে যাবে । এছাড়া বমি বমি ভাব হলে এক কাপ কুসুম গরম জলে ৪-৫ ফোঁটা পেঁয়াজের রস মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যাবে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top