অতি পরিচিত একটি শাক পুঁই শাক । পুঁই শাক আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় , সুস্বাদু ও পুষ্টিকর শাক । পুঁই শাক দিয়ে নানা পদ তৈরি করে আমরা খেয়ে থাকি । কিন্তু পুঁই শাকের মতো এরও বীজ খাওয়া যায় । সবজি বাজারে প্রায় সারা বছরই পুঁই শাকের দেখা পাওয়া যায় । সহজলভ্য বলে এই শাক কম- বেশি সবার কাছে প্রিয় । পুঁই শাকের পাশাপাশি পুঁই এর বীজ শরীরের পক্ষে ভীষণ উপকারী যা নানা ওষুধের কাজ করে । পুঁই শাকের বীজ রান্নায় সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয় । সবজি হিসেবে এটি খেলে নানা রোগ থেকে মুক্তি মিলবে ।

বিভিন্ন ঋতুকালীন সবজি খাওয়া উচিত । পুঁই শাকের পাশাপাশি তার বীজ শরীরের পক্ষে ভালো । পুঁই শাকের মতো পুঁই বীজের আঁশ শুক্রাণুর সক্রিয়তা বাড়ায় । টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ায় । পুরুষদের জন্য এই পুঁই বীজ খুবই উপকারী । ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই বীজ খুব উপকারী । ডায়াবেটিস রোগীরা এই বীজ নিশ্চিন্ত ভাবে খেতে পারেন । এই বীজ পাকস্থলী কিংবা বিভিন্ন ক্যান্সার রোগ উপশমে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে ।

পুঁই বীজের রঙ কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে নীলচে কালো রঙের দেখায় । পুঁই বীজে রয়েছে ভিটামিন এ , ভিটামিন সি , ভিটামিন ই , ফলিক অ্যাসিড , ম্যাগানিজ , ক্যালসিয়াম , অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট , জিংক ও আয়রনের মতো উপকারী সব উপাদান । পুঁই শাকের বীজ নিয়মিত খেলে রক্তে ফ্যাট বাড়ার আশঙ্কা কমে যায় । এই বীজ খেতে সুস্বাদু হলেও এর ভেষজ গুন অনেক । এই বীজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । পুঁই শাকের পাশাপাশি পুঁই বীজ খেলে রক্তে চর্বি বাড়ার ভয় থকে না । পুঁই এর বীজ চোখের স্বাস্থ্য বাড়ায় এবং ত্বকের সমস্যাগুলি সমাধান করে । এর বীজে থাকা খনিজ উপাদান আপনার ইনিউন সিস্টেম সুস্থ রাখে এবং শরীরের স্বাস্থ্য উন্নত করে । নিয়মিত রান্নায় পুঁই বীজ খেলে অনায়াসে অবসাদের ফাঁদ কাটিয়ে ওঠা যায় ।

যারা ব্রনের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য পুঁই শাক খুব ভালো । এই শাকে পুষ্টিগুন বেশি থাকায় রোগ প্রতিরোধে বেশ কাজ করে । পুঁই শাক দেহ থেকে সঠিক ভাবে বর্জ্য নিষ্কাশন করে বদহজম , গ্যাস , অ্যাসিডিটি – সহ নানা সমস্যা দূর করে । পুঁই শাকে আছে অ্যান্টি – ইনফ্লেমেটরি গুন । যা শরীরের কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ফুলে গেলে পুঁই শাকের শিকড় বেটে লাগালে দ্রুত উপশম হয় ।

পুঁই শাকের বীজে থাকা ভিটামিন এ , ই এই দুটি ভিটামিন অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট হিসেবে কাজ করে । আর ম্যাঙ্গানিজ এমন এক খনিজ উপাদান , যা সার্বিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন । ম্যাঙ্গানিজ হৃদযন্ত্রের সুস্থতা এবং দেহের বিপাকক্রিয়ার স্বাভাবিকতার জন্য প্রয়োজন হয় । এছাড়া ফলিক অ্যাসিডের অভাবে দেখা দেয় রক্তশুন্যতা । যা অভাব মেটাতে পারে এই ছোট কতগুলি পুঁই শাকের বীজ । স্বাস্থ্যকর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সব খাবারের মতো খাদ্যতালিকায় পুঁই বীজ রাখা প্রয়োজন । পুঁই শাকের বীজ একটি শক্তিশালী সবজি যা আপনার স্বাস্থ্যকে উন্নতি এনে দিতে পারে। চলুন জেজে নেওয়া যাক এই বীজের উপকারিতা সম্পর্কে ।

১ । কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে — পুঁই শাকের বীজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । খাবারে পুঁই শাকের বীজের সঙ্গে পুঁইয়ের ডাঁটা থাকলে তাতে আঁশের পরিমাণ বাড়ে । ফলে খাদ্যতালিকায় আঁশ সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পুঁইশাকের বীজও যুক্ত হলে এসবের সম্মিলিত প্রভাবে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমবে । যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তারা পুঁই বীজ খেতে পারেন ।
২ । রক্তের ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে রাখে — এই বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি । এটি রক্তের ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে রাখে ।
৩ । উচ্চ আয়রন উৎপাদন করে — পুঁই শাকের বীজ আয়রনের অভাবে সংক্রামক এনেমিয়ার প্রতিরোধে একটি উচ্চ উৎপাদন করে । এনেমিয়ার রোগের কারণে শরীরের হেমোগ্লোবিন মাত্রা কম হয় । এটি হেমোগ্লোবিন উৎপাদন ও রক্তক্ষরণ বাড়ায় ।

৪ । ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি কমায় — পুঁই শাকের বীজ অনেক এণ্টিউক্লিয়েট উৎপাদন করে যা ক্যান্সারের প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ । এণ্টিউক্লিয়েট গ্লোকোসিনেট ক্যান্সার রোগের ঝুঁকিকে কমায় এবং ক্যান্সার সেলগুলির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে ।

৫ । ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী — ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা পুঁই শাকের বীজ খেতে পারে । রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা স্বাভাবিক রাখে এই বীজ । রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এই পুঁই বীজ ।