শীতকাল মানেই কমলা লেবু । সারা বছর পাওয়া গেলেও কমলালেবু মূলত শীতকালীন ফল । শীতের মরসুমে সাইত্রাই ও রসালো জাতীয় ফল খাওয়া খুব ভালো । এটি খেতে সুস্বাদু তা নয় , এই ফল স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী । এই গোলাকার সাইট্রাস ফলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ফলের বাটি , রেফ্রিজারেটর এবং লাঞ্চ বাক্সে পাওয়া যায় । কমলালেবু একটি পুষ্টির শক্তিশালা , যা ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের পরিপূর্ণ । এর মধ্যে এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ভিটামিন সি । কমলালেবু ফলের রঙ কমলা হয় তাই এই ফল কমলা লেবু হিসেবে পরিচিত ।

তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে , আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং ত্বক প্রাণহীন হয়ে যায় । এমনকি হজমশক্তি দুর্বল হতে থাকে । কমলালেবু এমন একটি ফল যা স্বাস্থ্যকর শরীরের পাশাপাশি উজ্জ্বল ত্বকও দেয় । কমলালেবুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি , এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন এ , বি , ক্যালসিয়াম , পটাসিয়াম , ফসফরাস , ম্যাগনেসিয়াম , কোলিন এবং অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । এ ছাড়াও কমলালেবুতে রয়েছে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টস । যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী বলে প্রামাণিত । তাই শীতকালে কমলালেবু খাওয়া উচিত । একটি কমলালেবু আমাদের শরীরে সারাদিনের ভিটামিনের ভিটামিন সি -এর চাহিদার ১১৬.২ শতাংশ মেটায় ।
এই মরসুমে ফল ও শাকসবজি খাওয়া উচিত । প্রতিদিন মরসুমি ফল ও শাকসবজির নিজস্ব সুবিধা রয়েছে । এই মরসুমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় , যার ফলে তাড়াতাড়ি জ্বর , সর্দি- কাশি এবং গলা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে । তাই এই মরসুমে কমলালেবু খাওয়া খুব ভালো বলে মনে করা হয় । চলো তাহলে জেনে নেওয়া যাক কমলালেবু শরীরের জন্য কতটা উপকারী ।

কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমায় — এটি কিডনির জন্য উপকারী । কারণ , এতে রয়েছে ভিটামিন সি যা কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ করে । সাইট্রেট হল একটি সাইট্রিক অ্যাসিড যা সাধারণত সাইট্রাস ফল যেমন কমলালেবুতে পাওয়া যায় । প্রস্রাবে সাইট্রেটের অভাবে হলে কিডনিতে পাথর হতে পারে । কমলালেবু প্রস্রাবে সাইট্রেটের মাত্রা বাড়ায় , যা পাথর গঠনের সম্ভবনা কমিয়ে দেয় । ছোট পাথর রোগীদের সাধারণত এক গ্লাস কমলালেবুর রস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে — কমলালেবুতে পাওয়া যায় ফ্ল্যাভোনয়েড হেস্পেরিডিন যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে ।
ওজন কমাতে সাহায্য করে — কমলালেবুতে রয়েছে ফাইবার । যা ওজন কমাতে সাহায্য করে । এটি ওজন কমানোর পাশাপাশি হজমশক্তিকেও শক্তিশালী করে । দ্রবণীয় ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস রোধ করে । ফলে শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে । শরীর ভারসাম্য বজায় রাখে ।

হার্টের জন্য ভাল — কমলালেবুতে উপস্থিত ফ্ল্যাভোনয়েড হৃদরোগের থেকে রক্ষা করে । এই ফল রক্তের কোষের কার্যকারিতা উন্নত করে । বিশেষ করে কমলালেবু স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় ।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে — কমলালেবু ক্যারোটিনয়েড যৌগ সমৃদ্ধ । যা খাওয়ার সময় ভিটামিন এ রূপান্তরিত হয় এবং ম্যাকুলার ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে ।
কোলেস্টেরল হ্রাস করতে সাহায্য করে — কমলালেবুতে ফাইবার থাকে । যাকে বলা হয় পেকটিন । এটি রক্ত স্রোতে শোষিত হওয়ার আগে শরীর থেকে কোলেস্টেরল দূর করে । এটি খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করে এবং ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । যা মানুষের শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে ।

ত্বকের জন্য উপকারী — কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট রয়েছে । ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে । এটি ত্বক সুন্দর করতে সহায়তা করে । কমলার রস মুখের জন্য জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে । এছাড়া ব্রন , মুখের খোলা রোমছিদ্র সংকুচিত করতে সাহায্য করে । নিয়মিত কমলালেবুর ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে উঠবে পরিস্কার ও ঝকঝকে ।
সর্দি -কাশি প্রতিরোধ করে — কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে । যা সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে উপকারী । তাই , শীতকালে কমলালেবু খাওয়া সাধারণ সর্দি প্রতিরোধে সাহায্য করে । শীতকালে কমলালেবু খেলে ঠাণ্ডা ও ফ্লু প্রতিরোধে করা যায় ।

ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করে — কমলালেবুতে ডি – লিনিন থাকে , এটি একটি যৌগ । কমলালেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি – অক্সিডেণ্টগুলি উভয়ই শরীরের প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ । ভিটামিন সি আমাদের শরীরের র্যাডিকেল থেকে মুক্ত করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় । ত্বক , ফুসফুস , স্তন , পাকস্থলী এবং কোলন সহ বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে ।
বাতের ক্ষেত্রে উপকারী — কমলালেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি । যা একটি ভাল অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট হিসেবে বিবেচিত হয় । যা জয়েন্টপাড়া প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে । এটি হাড় সম্পর্কিত ব্যাধি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে ।