ভুট্টা , সাধারণত ভুট্টা নামে পরিচিত । বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যশস্য । ভুট্টা একটি প্রচলিত খাদ্যশস্য যা পুষ্টিগুণে ভরপুর । এটি ঘাস পরিবারের একটি উদ্ভিদের বীজ , যা মধ্য আমেরিকার স্থানীয় কিন্তু বিশ্বব্যাপী অগণিত জাতের মধ্যে জন্মায় । ভুট্টা ইংরেজিতে কর্ণ নামে পরিচিত । তবে নিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত । গোটা শস্যের ভুট্টা যে কোনও সিরিয়াল শস্যের মতোই স্বাস্থ্যকর । এটি বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ , যেমন ফাইবার , ভিটামিন সি , এ , বি১ , বি১২, বি২ , বি৯ , ই , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , প্রোটিন , আয়রন , দস্তা ,সোডিয়াম , ফ্যাইটিক অ্যাসিড , কার্বোহাইড্রেট এবং খনিজ । এছাড়া ভুট্টায় রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম , পটাশিয়াম , ফসফরাস এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের অন্যান্য খনিজ উপাদান যা পরিপূরক হতে সাহায্য করে । ভুট্টা ছাড়াও , কর্ণ সিল্ক ( যা ভুট্টার কানের সাথে যুক্ত লম্বা স্ত্র্যাণ্ড ) ওষুধের উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হয় ।

পুষ্টিগতভাবে বৈচিত্র্যময় খাদ্য হিসেবে , ভুট্টা অপরিহার্য পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস । ভুট্টায় মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন আছে । যদিও এগুলি প্রথম শ্রেনির প্রোটিন নয় । অর্থাৎ মাছ , মাংসে যে পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায় , সেটা এতে নেই । তবে ভাতের চেয়ে ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ বেশি । ভুট্টা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী । এটি ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করে এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে । ভুট্টায় ক্যারোটিন থাকে , যার কারণে ভুট্টার রঙ হ্লুদ হয় । ভুট্টা সেদ্ধ , ভাজা বা পড়ানোর – যে কোনো উপায়েই খাওয়া যায় । ভুট্টা খাওয়ার বেশ কিছু উপকারিতা এবং অপকারিতাও রয়েছে । চলো তা নিয়ে আলোচনা করা যাক ।
ভুট্টা খাওয়ার উপকারিতা —

শক্তি বাড়ায় এবং হৃদ স্বাস্থ্য ভালো রাখে ঃ ভুট্টাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট দেহে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং টেকসই শক্তির মাত্রা প্রদান করে । তাই পরিশ্রমী ব্যক্তিদের জন্য এটা বেশি কার্যকার । শর্করার মাত্রা বেশি থাকায় ভুট্টা দেহে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে । এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ।
ওজন বাড়াতে সাহায্য করে ঃ ভুট্টা খেলে শরীরের ওজন বাড়ে । ভুট্টায় প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে । যাদের নিজের কম ওজন নিয়ে সমস্যা আছে তারা নিয়মিত খাওয়া শুরু করতে পারেন ।
রক্তাল্পতা সংশোধন করে ঃ ভুট্টাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং আয়রন থাকে । যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে । এটি রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমায় । রক্তাল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে ভুট্টা খাওয়া উচিত ।

হজম স্বাস্থ্য উন্নতি করে ঃ ভুট্টার আঁশ হজম স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় ও পেট পরিস্কার করতে সাহায্য করে । এতে কোষ্ঠকাঠিন্য হ্রাস পায় এবং একটি স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম প্রচার করে ।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ঃ এতে এমন কয়েকটি যৌগ থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে । ভুট্টায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ । যা ক্যান্সার কোষকে নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করে । যাদের ক্যান্সারের সমস্যা রয়েছে তাদের ভুট্টা খাওয়া উচিত ।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে ঃ ভুট্টাতে আছে লুইটেইন ও জিয়াক্সান্থিন যা চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট হিসেবে কাজ করে । বয়স – সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে পারে ।
ত্বকের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে ঃ ভুট্টাতে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও ভিটামিন বেশি থাকায় ত্বক সুন্দর করতে সহায়ক । যে কারণে বয়সের ছাপ কমাতেও সহায়ক ভুমিকা রাখে । এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ।

অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য উপকারী ঃ অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের খাবার তালিকায় রাখুন ভুট্টা । এতে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড । মা এবং ভ্রুন দুজনেই স্বাস্থ্য ভাল রাখে । এছাড়াও ভুট্টা গর্ববতী মহিলাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও কমবে ।
ভুট্টা খাওয়ার অপকারিতা —
১। ডায়াবেটিস রোগীদের ভুট্টা খাওয়া উচিত নয় । কারণ ,ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের মাত্রা বাড়তে শুরু করে ।
২। কিছু মানুষের ভুট্টা খেলে হজমে সমস্যা হয় , যেমন গ্যাস বা পেট ফাঁপা অ্যালার্জি কারণ হতে পারে ।
৩। ভুট্টা অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পেটে ব্যথা হতে পারে । কারণ ভুট্টায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে ।

৪। কাঁচা ভুট্টা বাচ্চাদের খাওয়া উচিত নয় । এটি তাদের ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে ।
৫। ভুট্টায় কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালোরি থাকে , ফলে অতিরিক্ত পরিমাণে ভুট্টা খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে ।
ভুট্টা রান্নার সঠিক উপায় ঃ সেদ্ধ , রোস্ট , গ্রিল্ড বা ভাপানো যে কোনো ভাবে ভুট্টা রান্না করে খাওয়া যায় । শুধু ভাজা ভুট্টা এড়িয়ে চলা উচিত । কারণ , এতে কোনো পুস্তিমান অবশিষ্ট থাকে না ।