শীতকালীন সবজির মধ্যে রান্নাঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি হল মুলো । শীতকালীন এই সবজিটি অনেকেই পছন্দ করেন না । আবার অনেকেই পছন্দ করেন । তবে জানলে আবাক হবেন এই সাধারণ সবজির মধ্যে রয়েছে অসাধারন গুন । মুলো শীতে হজম প্রক্রিয়া বাড়ায় । শীতকালে অনেকেই মুড়ি কিংবা স্যালাডে মুলো খেতে পছন্দ করেন । অনেকে আবার মুলো খেতে ভয় পান , ভাবেন মুলো খেলে পেটে গ্যাস হবে । তাদের উদ্দেশ্য জানাছি , এর জন্য মুলো খাওয়ার পদ্ধতিই দায়ি । তবে এই মরশুমে কাঁচা মুলো খাওয়ার মজাই আলাদা । আমরা অনেকেই মুলো খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপকারিতা সম্বদ্ধে বিশেষ জানি না । মুলো খেলে শরীরে ইউরিন প্রডাকশন বেড়ে যায় । এছাড়াও ইউরিনারী ট্রাকে জ্বালা যন্ত্রণা কমাতেও সাহায্য করে । একই সঙ্গে কিডনি আর ইউরিনারী সিস্টেম পরিস্কার রাখে । নিয়মিত মুলো খেলে লিভার , গলব্লাডার ইনফেকশন আর আলসারের হাত থেকে বাঁচা যায় । মুলো রক্ত পরিশোধন করে । শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বের করতে সহায়তা করে ।

শীতকাল পড়তেই বাজারে নানান রকমের সবজি পাওয়া যেতে শুরু করেছে । যেমন – ফুলকপি , কড়াইশুটি , গাজরের মতো পাওয়া যাচ্ছে মুলোও । মরশুমি সবজি খাওয়া সবসময় স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী । যেকোন উপায়ে সাদা মুলো খাওয়া যেতে পারে । সেটা স্যালাড হোক কিংবা তরকারির কিংবা পোরটার মধ্যে পুর হিসেবে ব্যবহার করে । যেকোনও পদ্ধতিতেই সাদা মুলো শরীরের জন্য উপকারী । মুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে । মুলোয় সোডিয়াম , ফাইবার , ভিটামিন সি , ভিটামিন বি৬ , প্রোটিন , পটাশিয়াম সহ অনেক পুষ্টিগুন রয়েছে । মাত্র ১০০ গ্রাম মুলো খেলেই শরীরের বহু ধরনের লাভ হতে পারে । শীতকালে নিয়মিত মুলো খেতে তা আপনার দৈনিক ভিটামিনের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করতে পারে । তাই আপনি অবশ্যই এটি আপনার ডায়েটে রাখতে পারেন । চলুন জেনেনি কতটা উপকারী এই সবজি ।
কিডনি সুস্থ রাখে – পুষ্টিকর মুলো কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । কারণ , এই সবজি মূত্রবর্ধক প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ । এছাড়া মুলো রক্তে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ।
হার্ট সুস্থ রাখে – মুলোয় উপস্থিত এন্থেকাইনিন হৃদয়কে সুস্থ রাখে । এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে , যা আমাদের দেহে সোডিয়াম – পটাশিয়াম অনুপাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করে – যাদের উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা আছে তাদের জন্যও মুলো খুব উপকারী । অ্যান্টি – হাইপারটেনসিভ বৈশিষ্ট্যযুক্ত মুলো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে । প্রতিদিন ১০০ গ্রাম মুলো খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে । মুলোয় পটাশিয়াম বেশি থাকে । এটি খেলে রক্তচাপ কমে ।
ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে থাকে – এই সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে । এই উপাদান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট হিসেবে কাজ করে । যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকরী । বিশেষ করে কোলন , কিডনি , ক্ষদ্রান্ত্র , পেট এবং মুখের ক্যান্সারে খুবই কাজ দেয় । মুলো শরীরের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টক্সিন পরিস্কার করতে সাহায্য করে । এটি ক্যান্সারজনিত টিউমারের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় । মুলো খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে ।

পাইলসের সমস্যা কমে – পাইলস জাতীয় রোগীদের জন্য মুলো খুবই উপকারী । অর্শরোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের প্রতিদিন ১০০ গ্রাম কাঁচা মুলো খাওয়া উচিত বা মুলো টুকরো টুকরো করে ১ চামচ মধু দিয়ে খাওয়া উচিত । এছাড়াও এক চিমটি বিটনুন দিয়ে মুলোর রস খেতে পারেন ।পাইলসের রোগীরা মুলো বা এর পাতার তরকারি খেলে স্বস্তি পেতে পারেন ।
ওজন কমাতে সাহায্য করে – ওজন কমানোর জন্য মুলো একটি চমৎকার খাবার । মুলো ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে । মুলোয় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে । এতে সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেটও রয়েছে । এতে ফ্যাট ও ক্যালোরি কম থাকে । তাই মুলো খেয়ে সহজেই ওজন কমাতে পারেন ।
লিভার সুস্থ রাখে – এটি আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । যদি আপনি পেটে ভার অনুভব করেন তবে মুলোর রসের সঙ্গে নুন মিশিয়ে পান করুন ।
জন্ডিস নিয়ন্ত্রণ করে – এটি জন্ডিসের চিকিৎসায় কার্যকারী । কারণ এটি রক্তে বিলিরুবিল নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয় । মুলো জন্ডিসের রোগীদের জন্য প্যানিসিয়া হিসাবে কাজ করে । প্রতিদিন সকালে একটি কাঁচা মুলো খেলে জন্ডিস নিরাময় হয় বলে মনে করা হয় । এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী সবজি । এতে উপস্থিত উপাদান গুলি ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ।

মুলো খাওয়ার সঠিক উপায় —
মুলো খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি হল আপনি এটির খোসা ছারিয়ে কালো নুন মিশিয়ে খান । মুলো খাওয়ার সময় এর সাথে অন্যান্য সবজি মিশিয়ে নিন , যেমন – গাজর , টমেটো , শসা ইত্যাদি । এতে স্বাদ বাড়বে এবং পুষ্টির পরিমাণও বাড়বে । মুলো খাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন খুব পাকা না হয় । অর্থাৎ পাতলা এবং স্বাদে মিষ্টি । মুলো খাওয়ার পর এক জায়গায় না বসে একটু হাঁটাহাঁটি করবেন । কারণ , মুলো হজম হতে সময় নেয় । এক জায়গায় বসে থাকলে এর হজমের সময় বেড়ে যায় ।
শরীরে ব্যথা বেশি হলে মুলো খাওয়া উচিত নয় । যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন না তাদের বেশি মুলো খাওয়া উচিত নয় । কারণ , মুলো খেলে পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা বাড়তে পারে ।