Health Tips : শিশুর ইমিউনিটি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফল ।

আজকাল শিশুদের পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে পিৎজ্জা , বিরিয়ানি , চিপস , বার্গার বা চকলেট । যেন তাদের মুখে একদমই রোচে না মুখরোচক খাবার ছাড়া । এসব খাবার শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয় , সেসব কথাও শোনে না তারা । তাদের মুখে রোচে না উপকারী ফল । আর সেই কারণে তারা একাধিক জটিল সমস্যায় ফাঁদে পড়ে বেজায় কষ্ট পায় । আর সেই সঙ্গে শরীরে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও হতে পারে । তাই যে কোনো উপায়ে হোক শিশুর শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে পারে । তাই সন্তানের স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে চাইলে তাকে নিয়মিত সবজি এবং ফল খাওয়াতেই হবে ।

শিশুদের পুষ্টি প্রাপ্তবয়স্কদের পুষ্টির মতো একই মৌলিক ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত । শস্য , দুগ্ধ , প্রোটিন , শাকসবজি এবং ফল হল পাঁচটি প্রাথমিক খাদ্যতালিকাগত গোষ্ঠী এবং যে কোনও শিশুর খাদ্যের জন্য এটি একটি চমৎকার শুরুর বিন্দু । প্রতিটি খাদ্য বিভাগের অনুপাত , বয়স , জেনেটিক গঠন এবং শারীরিক কার্যকলাপ দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত হয় । তাজা ফল যাতে কোন অতিরিক্ত চর্বি বা চিনি না থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে । ফল সম্পূর্ণ বা রস আকারে খাওয়া উচিত । বাচ্চাদের চমৎকার পুষ্টির মূল্য শেখান এবং তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যভাসে গড়ে তুলতে সহায়তা করুণ । আপনার শিশু পুষ্টি সম্পর্কে যত বেশি শিখবে , আর সে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ব্যাপারে তত বেশি উৎসাহী হবে ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক বাচ্চাদের বিকাশের এবং বৃদ্ধি জন্য কয়েকটি ফল সম্পর্কে ।

ফল ——-

পেয়ারা ঃ দেশি এই ফলটি স্বাস্থ্যগুনে সবার থেকে সেরা । তবে জানলে অবাক হয়ে যাবেন , এই ফলে রয়েছে ভরপুর ভিতামিন সি । এই ভিটামিন কিন্তু শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায় । ফলে রোগ থাকে দূরে । শুধু তাই নয় , এই ফলটি রয়েছে আয়রন , পটাশিয়ামের মতো একাধিক জরুরি খনিজ রয়েছে । সেই কারণে পেয়ারা খেলে শরীর ও স্বাস্থ্যের হাল ফেরানো যায় ।

অ্যাভোকাডো ঃ অ্যাভোকাডো ভিতামিন সি , ভিটামিন বি , বি-৬ এবং ই সমৃদ্ধ । বাচ্চাদের ডায়েটে প্রতিদিনের পুষ্টি যোগ করার জন্য একটি ভালো ফল । এই ফলটিতে ওমেগা -৩ অ্যাসিড বেশি , যা মস্তিস্কের বিকাশের জন্য খুব প্রয়োজনীয় । এতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট রয়েছে , যা অস্থি মজ্জাতে লাল এবং সাদা রক্ত কোষ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং শক্তিতে গ্লুকোজ বিপাকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

আপেলঃ প্রতিদিন একটি আপেল ডাক্তারকে দূরে রাখে । আপেলে রয়েছে একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজ । এই ফল খেলে দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টও পৌঁছে দিতে সাহায্য করে । ফলটি খেলে নানাবিধ জটিল রোগ থেকে এড়িয়ে চলা যায় । তাই চেষ্টা করুণ যে কোন ভাবে সন্তানকে প্রতিদিন একটা করে আপেল খাওয়াতে । যা তাদের শক্তিশালী , সুস্থ থাকতে এবং সক্রিয় জীবনযাপন করতে সহায়তা করবে । আপেল খাদ্যতালিকাগত ফাইবার অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় যা হজমে সাহায্য করে এবং খনিজ বোরন আপনার বাচ্চাদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে ।

আঙ্গুর ঃ বাচ্চারা আঙ্গুরের মিষ্টি এবং টক স্বাদ পছন্দ করে , তাই এই ফলটি বাচ্চাদের খাওয়াতে পারেন । আঙ্গুরে কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে শোষিত হয় , তারা যে শক্তি সরবরাহ করে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় । আঙ্গুর হল ফাইবার , পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি – এর ভালো উৎস । আঙ্গুরের খোসায় অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট বেশি থাকে , যা সর্বোত্তম স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য ।

কলা ঃ এই ফলটি শিশুদের বেশ পছন্দের তালিকায় রয়েছে । তাই এই ফলটি খাওয়ানো খুব কঠিন নয় । কলাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট , যা বাচ্চাদের এনার্জির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে । শুধু তাই নয় , এতে রয়েছে , ভিটামিন সি , ভিটামিন এ , ভিটামিন বি৬ ও পটাশিয়ামের মতো ভিটামিন ও খনিজ । এছাড়াও রয়েছে ফাইবার । কলা পুষ্টি সরবরাহ করে যা শক্তিশালী হাড় এবং চমৎকার দৃষ্টিশক্তির বিকাশে সহায়তা করে । এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ভিটামিন এ রয়েছে , যা হজমে সাহায্য করে এবং অল্পবয়সিদের রক্তশূন্যতা এড়ায় ।

কমলালেবু ঃ সন্তানের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি ডায়েটে অবশ্যই রাখুন । এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । এতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন , যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে । এই সুস্বাদু ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , ফাইবার রয়েছে । তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে , ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধ , ক্যান্সার এবং কিডনি রোগ প্রতিরোধ এবং হৃদরোগের উন্নতিতেও সহায়তা করে । তাই রোজ ডায়েটে কমলালেবু খাওয়ানোর চেষ্টা করুণ ।

ব্লুবেরি ঃ ব্লুবেরি , ক্র্যানবেরি সহ একাধিক বেরি জাতীয় ফল রয়েছে । এই ফল গুলি হল অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টের ভাণ্ডার । যা মস্তিস্কের জন্য উপকারী । এই ফলে ভিটামিন ও খনিজের গুনের কারণে মিটে যায় পুষ্টির ঘাটতি ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top