লিভার একটি প্রধান অঙ্গ যা শরীরিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে । লিভার ক্ষতিকারক পদার্থগুলিকে ডিটক্সিফাই করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রোটিন , চর্বি , শর্করা এবং পাচক এনজাইমগুলিকে সংশ্লেষণ করা , স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে । লিভার সত্যিই একটি বহুমুখী পাওয়ার হাউস । লিভার একটি স্টোরেজ অঙ্গ হিসাবেও কাজ করে । কারণ , এটি গ্লাইকোজেন আকারে গ্লুকোজে সঞ্চয় করতে সাহায্য করে যা জরুরি সময়ে ব্যবহৃত হয় । একটি সুস্থ লিভার রক্ত প্রবাহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ এবং বর্জ্য অপসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । যখন লিভার ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং সঠিকভাবে কাজ করতে অক্ষম হয় , তখন টক্সিন জমা হতে পারে । এবং আপনাকে রোগ বা এমনকি মৃত্যুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে । লিভারে চর্বি জমাতে বাধা দেয় এবং গ্লুকোসিনোলেটের মতো যৌগগুলি ডিটক্সিফিকেশন এনজাইমগুলিকে সাহায্য করে ।

লিভারের অসুখের জন্য আমাদের নানা ভুল অভ্যাস অনেকাংশে দায়ী । বিশেষ করে ভুল খাবার নির্বাচিত ও সঠিক উপায়ে না খাওয়া এর মধ্যে অন্যতম কারণ । যেমন বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া , ঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া , হাত না ধুয়ে খাওয়ার মতো অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিন । সেইসঙ্গে বাদ দিতে হবে অনেক সময় না খেয়ে থাকা , ঘুমে অনিয়ম করার মতো কিছু অভ্যাসও । তাই আপনাকে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে যা আপনার লিভারের জন্য ভাল এবং আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । চলুন জেনে নেওয়া যাক তেমনি কিছু খাবারের সম্পর্কে ———

রসুন ঃ রসুনে সালফার যৌগ রয়েছে যা লিভারের এনজাইমগুলিকে সক্রিয় করে , ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা করে এবং লিভারের সামগ্রিক কার্যকারিতাকে সমর্থন করে । কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী রসুন ।

সবুজ শাক সবজি ঃ পালং শাক , ব্রকলি এবং অন্যান্য সব সবুজ শাক সবজিতে উচ্চ মাত্রার নাইট্রেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যৌগ থাকে যা লিভারকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে ।
হলুদ ঃ হ্লুদের সক্রিয় যৌগ কারকিউমিনের শক্তিশালী অ্যান্টি – ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা লিভারকে রক্ষা করতে এবং এর কার্যকারিতাকে সমর্থন করতে পারে ।

ব্রকলি ঃ বিদেশি সবজি হলেও দেশি সবজির পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে এই সবজি । সবুজ রঙের এই সবজি অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টে ভরপুর থাকে । এতে থাকে ক্যান্সার প্রতিরোধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান । এই সবজি নিয়মিত খেলে লিভার সুস্থ থাকে । সেদ্ধ ব্রকলি বা এর সুপ খেলে উপকার পাবেন ।
আদা ঃ এটি অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টে ভরপুর যা লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে । গবেষণায় দেখা গেছে যে ২ গ্রাম আদা খাওয়া লিভারের প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে লিভারের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে ।

কমলা লেবুর রস ঃ এতে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি রয়েছে যা লিভারকে ডিটক্সিফাই করে এবং বিষাক্ত পদার্থ থেকে রক্ষা করে ।

অলিভ অয়েল ঃ জলপাই তেল আপনার লিভারের জন্য আরেকটি স্বাস্থ্যকর খাবার । কারণ , এটি আপনার লিভার এবং অন্যান্য অঙ্গের উপর অনেক উপকারী প্রভাব ফেলে । অলিভ অয়েল লিভারের এনজাইমের মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে যা লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে । এটি লিভারে রক্তের প্রবাহ উন্নত করতেও সাহায্য করে । অলিভ অয়েল লিভারকে রোগ থেকে রক্ষা করে এবং আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । এছাড়াও এটি আপনার শরীরের চর্বি কমায় এবং ফ্যাটি লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে ।

আখরোট ঃ সমস্ত বাদামের মধ্যে , আখরোট হল ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ওমেগা -৬ এর সেরা উৎস । যা আপনার লিভারকে প্রাকৃতিকভাবে পরিস্কার করতে সহায়তা করে । প্রতিদিন আখরোট খেলে সুস্থ লিভার বজায় রাখতে সাহায্য করে ।
কফি ঃ জানলে অবাক হয়ে যাবেন যে কফি আপনার লিভারের স্বাস্থ্য বজায় রাখা জন্য ভাল । কফি লিভারকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে । কফি খেলে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি কমে যায় । এটি লিভারে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে । কফি লিভারের প্রদাহ থেকে মুক্তি পেতেও সাহায্য করে ।

মাছ ঃ মাছ ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সমৃদ্ধ উৎস । এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি আপনার লিভার এবং হার্টের জন্য ভাল । এই ফ্যাটি আপনার প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারের কোষে চর্বি কমাতেও সাহায্য করে । ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারে রক্তের প্রবাহকেও উন্নত করে । যেসব মাছ ওমেগা -৩ -এ সবচেয়ে ভালো সেগুলো হল স্যামন , সার্ডিন , লেক ট্রাউট এবং টুনা মাছ ।
গ্রিন টি ঃ গ্রিন টি লিভারের চর্বি জমায় । এটি লিভারের এনজাইমের মাত্রা উন্নত করে এবং বিষাক্ত পদার্থ থেকে রক্ষা করে রোগ প্রতিরোধ খমতা বাড়াতে সাহায্য করে । গ্রিন টি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে । গবেষণায় দেখা গেছে যে , গ্রিন টি খেলে লিভারে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে ।
বিটরুট ঃ এর রসে বিটালাইন থাকে যা প্রদাহের মাত্রা কমায় এবং যকৃতকে পিত্ত উৎপাদনে সাহায্য করে । এটি লিভারের এনজাইমগুলিকে সক্রিয় করে লিভার থেকে চর্বি দূরে রাখতে খুবই কার্যকরী ।

আঙুর ঃ আপনার লিভারের জন্য আঙুর উপকারী । আঙুর লিভারের প্রদাহ কমাতে । শরীরে অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট বাড়াতে সাহায্য করে এবং লিভারের ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে । আঙুর খাওয়া লিভারের সুস্থ কার্যকারিতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে ।