আপেলের কথা শুনলেও সবার আগে মনে আসে লাল আপেলের নাম । কিন্তু আপেল সবুজ হয়ও । সবুজ আপেল হল একটি অনন্য ধরনের ফল যা দুটি ভিন্ন প্রজাতির আপেলের ক্রসব্রিডিং দ্বারা তৈরি করা হয়েছে । আপেল যে উপকারী ফল সেকথা সকলেই জানেন নিশ্চয়ই । অনেক সময় শোনা যায় যে , প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে আমাদের আর চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে না । সেক্ষেত্রে সবুজ আপেলও খেতে পারেন । কিন্তু আপনি যদি ডায়াবেটিস রোগী হন তবে আপনি লাল রঙের পরিবর্তনে সবুজ রঙের আপেল খেতে পারেন । কারণ এটি , লাল আপেলের তুলনায় একটু বেশি পুষ্টিতে ভরপুর থাকে ।

অন্যান্য আপেলের তুলনায় এই ফলটি হালকা সবুজ , রসালো , খাস্তা স্বাদ , শক্ত ত্বক এবং দীর্ঘ বালুচর জীবন । এই ফলটি শীতকালে পাওয়া যায় । সবুজ আপেল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক ভাবে সমর্থিত জোট সরবরাহ করে । প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান আছে আপেলে । বিশেষজ্ঞদের মতে , লাল আপেলের তুলনায় সবুজ আপেলে বেশি ভিটামিন , প্রোটিন রয়েছে । সবুজ আপেলও পুষ্টিগুনে ভরপুর । এছাড়া , এতে ফাইবার , ক্যালসিয়াম , আয়রন , ম্যাগনেসিয়াম , ফসফরাস , অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট , মিনারেল , ক্যালোরি , ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে । এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ।
জেনে নিন প্রতিদিন সবুজ আপেল খাওয়ার উপকারিতা ।
লিভারের জন্য উপকারি ঃ সবুজ আপেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং ডিটক্সিফাইং এজেন্ট , যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং একই সঙ্গে লিভারকে হেপাটিক অবস্থা থেকে রক্ষা করে । প্রতিদিন সবুজ আপেল খেলে লিভারের কার্যকারিতা ঠিক থাকে । তাই আজ থেকে ডায়েটে জায়গা করে দিন সবুজ আপেল । সবুজ আপেল লিভার পরিস্কার করার পাশাপাশি আপনাকে মুক্ত রাখবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও । সম্ভব হলে সকালে খালি পেটে সবুজ আপেল খান ।

ফুস্ফুসের সুরক্ষা ঃ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান দূষণের কারণে আমাদের ফুস্ফুস অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের পরিমাণও । সবুজ আপেল সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । নিয়মিত সবুজ আপেল খেলে ফুস্ফুসের রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায় । হাঁপানি রোগীরা প্রতিদিন সবুজ আপেল খেলে উপকার পাবেন ।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে ঃ আপেলে পেকটিন থাকে , এক ধরনের ফাইবার যা প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে । এর মানে এটি আপনার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা খাওয়ায় , যা আপনার অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং এই যৌগটি খবারের কার্যকর ভাঙ্গানে সহায়তা করে ।
হাড় মজবুত করে ঃ সবুজ আপেল খেলে তা হাড় এবং দাঁত ভালো রাখতে কাজ করে । এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । আমরা যদি নিজেদের শরীরকে মজবুত রাখতে চাই তাহলে যে কোনও মূল্যে শরীরের সমস্ত হাড়কে সুস্থ করতে হবে । আর এখানেই মহৌষধ হল সবুজ আপেল । ৩০ বছর বয়সের পর থেকে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করে । সেক্ষেত্রে দেহের হাড়কে মজবুত রাখতে সবুজ আপেল খুবই উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে ।

মস্তিস্কের ক্ষতি প্রতিরোধ করে ঃ সবুজ আপেলের রস পান করার অন্যতম সুবিধা হল এটি মস্তিস্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে । সবুজ আপেলে উচ্চ ফাইবার উপাদান মস্তিস্কের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে ।
হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে ঃ সবুজ আপেল খেলে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে । সবুজ আপেলের রস পান করার অন্যতম সুবিধা হল এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে । পলিফেলন এবং ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ভরপুর , সবুজ আপেল অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে , কার্ডিওভাসকুলার সুস্থতার প্রচার করে ।
ক্যান্সার বিকাশের ঝুঁকি হ্রাস করে ঃ সবুজ অপেলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং অন্যান্য যৌগ রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয় । এতে উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধেও খুব ভালো কাজ করে ।
হজমের জন্য ভালো ঃ সবুজ আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে । এটি পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে খুবই সহায়ক । এটি বদহজমের মতো হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ সবুজ আপেল ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টিতে ভরপুর । তাই খিদে কম লাগে । এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলেন , যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প ।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় ঃ আপেলে দ্রবণীয় ফাইবারে ভরপুর , যা রক্তে শর্করার পরিবর্তনের চাবিকাঠি । আপেলে থাকা উচ্চ দ্রবণীয় ফাইবার , পেকটিন শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে রক্তে প্রবাহে শর্করাকে গতিতে পরিবহন করে ।